ই-পেপার | বৃহস্পতিবার , ১৩ই জুন, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ

চালক-যাত্রীর মারামারিতে সড়ক যোগাযোগ বন্ধ, ঈদ যাত্রায় গন্ডামারা বড়ঘোনার যাত্রীর ভোগান্তি

শিব্বির আহমদ রানা, বাঁশখালী প্রতিনিধিঃ

চট্টগ্রামের বাঁশখালীতে সিএনজি চালকের সাথে এক যাত্রীর কথাকাটাকাটির একপর্যায়ে ধাক্কাধাক্কির ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় পরে যাত্রী, সিএনজি আটকে রেখে চালককে মারধরের অভিযোগ উঠে। ঘটনাটি ব্যক্তি থেকে সিএনজি সমিতিতে গড়ায়। ঘটনার পর থেকে চারদিন (রিপোর্ট লেখাপর্যন্ত) ধরে বাঁশখালীর অভ্যন্তরিণ সড়ক চাম্বল বাংলাবাজার হয়ে গন্ডামারার বড়ঘোনা সকালবাজার পর্যন্ত রুটে প্রধানসড়কের সাথে সিএনজি চলাচল বন্ধ রয়েছে। এ সড়কে যাতায়তের অন্যতম যানবাহন সিএনজি চালিত অটোরিকশা। সড়ক দিয়ে যোগাযোগ বন্ধ হওয়ায় ঈদ যাত্রায় চরম ভোগান্তি পোহাচ্ছে যাত্রী সাধারণ।

 

গত শুক্রবার (২৩ জুন) রাত ৯ টার সময় চাম্বল বাংলাবাজার সিএনজি স্টেশনে বড়ঘোনার এক যাত্রীর সাথে কথা কাটাকাটির জের ধরে পরে বড়ঘোনার নতুন বাজার এলাকায় সিএনজি আটকে চালককে যাত্রীকতৃক মারধরের ঘটনাটি ঘটে।

 

সড়কে চলাচলকারী সিএনজি চালকদের সাথে কথা বললে তারা জানান, ‘গত শুক্রবার রাতে কলেজ পড়ুয়া এক ছেলে বড়ঘোনা যাওয়ার জন্য চাম্বল স্টেশনে অপেক্ষা করে। এক চালক তাকে বড়ঘোনা গেলে সিরিয়ালে থাকা সিএনজিতে উঠতে বলেন। পরে সে কোন জবাব না করে দাঁড়িয়ে থাকে। পরে আরেকজন চালক সাধু ভাষায় ভাইজান কোথায় যাবেন বলাতেই ছেলেটি বলে উঠলো ‘আমারে বইঙ্গা পাইছেন নাকি।’ এমনটি বলে আরেকটি গাড়ীতে (সিরিয়াল ছাড়া) উঠেন ওই যাত্রী। চালক যেতে না চাইলে পরে প্রথমজন চালকের গাড়িতে উঠতে চাইলে তাকে নিতে অসম্মতি জানায়। এতে কথাকাটাকাটির একপর্যায়ে ধাক্কাধাক্কির ঘটনা ঘটে। পরে চাম্বলের এক সিএনজি চালককে বড়ঘোনা নতুন মার্কেট এলাকায় আটকে স্থানীয়রা মারধর করে।

 

এ বিষয়ে জানতে চাইলে বড়ঘোনা সকাল বাজার সিএনজি অটোরিকশা এসোসিয়েশনের সভাপতি আবুল হোসেন সিকদার বলেন- ‘যাত্রী ও চালকের মারামারির ঘটনার পরে চাম্বলের সিএনজি ড্রাইভার আমাদের বড়ঘোনার সিএনজি আটকে রেখে ড্রাইভারদের মারধর করে। বাংলাবাজার পার হয়ে হয়ে আমাদের গাড়ী আসতে দিচ্ছেনা। এমনকি গাড়ী ভাংচুর করছে তারা। বিকল্প হিসেবে এখন আমাদের সিএনজিগুলো বড়ঘোনা হয়ে শীলকূপ টাইমবাজার দিয়ে প্রধান সড়কের সাথে যাতায়ত করছে।’

 

তিনি আরো বলেন, এসোসিয়েশন ড্রাইভারদের মধ্যে ঝগড়া কিন্তু চাম্বলে বড়ঘোনার সাধারণ যাত্রীদেরকে মারধরের ফলে বিকল্প পথ হিসেবে গন্ডামারা হয়ে টাইম বাজারের পথে চলাচলের জন্য এলাকায় মাইকিং করা হয়েছে।’

 

এ বিষয়ে জানতে চাইলে চাম্বল সিএনজি এসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক বলেন- ‘ চাম্বলের ড্রাইভার বিষয়টি নিয়ে পরবর্তী স্থানীয়দের সাথে বসেন। মিমাংসার জন্য পরদিন শনিবার আবার বৈঠকের জন্য বড়ঘোনার ড্রাইভারগণ চাম্বলে আসার কথা বলে আর আসেননি। রবিবার রাতে আমাদের একজন ড্রাইভার সকাল বাজার গেলে সেখানে লাইনম্যান শহীদ ও স্থানীয় সাওদাগর জাকের এর সাথে এমনি কথা বলার সময় ঐ ছেলেটি এসে আমাদের ড্রাইভারকে মারধর করে।’

 

এ ঘটনায় আমরা বড়ঘোনার সিএনজিকে চাম্বল বাংলাবাজার ক্রস করে আসতে দিচ্ছিনা এমন বক্তব্য মিথ্যা দাবী করেন তিনি। এমননি উল্টো তারা আমাদের লোকজন ও গাড়ী বড়ঘোনায় প্রবেশ না করার জন্য কমিটির পক্ষ থেকে মাইকিং করেছে।’

 

এ ঘটনায় গন্ডামার-বড়ঘোনার লোকজন প্রধান সড়ক হয়ে উপজেলায় যাতায়ত ও শহর থেকে ঈদে ঘরে ফেরা যাত্রীরা পড়েছে চরম বেকায়দায়। বিকল্প সড়ক হয়ে দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে যেতে হচ্ছে আপন গন্তব্যে। কবে নাগাদ এ সমস্যার সমাধান হবে তা ঠিক করে বলতে পারছেন না কেউ।

 

উল্লেখ্য, এ সড়ক দিয়ে বড়ঘোনার ৬০ থেকে ৭০টি ও চাম্বল বাংলাবাজারের ৪০ থেকে ৫০টি সিএনজি নিয়মিত যাত্রী বহন করে আসছে।

 

এইচ এম কাদের,সিএনএন বাংলা২৪