ই-পেপার | সোমবার , ২৪শে জুন, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ

টেকনাফে অপহৃত শিশু ৬ দিন পর উদ্ধার, ৪ অপহরকারী আটক

বিশেষ প্রতিবেদক:

কক্সবাজারের টেকনাফে খায়রুল আমিন (১২) নামের এক শিশুকে অপহরণের ৬ দিন পর উদ্ধার করেছে পুলিশ। এর আগে ওই শিশুর মুক্তির জন্য ৬ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয়।

বুধবার (২১ জুন) ভোর ৫টার দিকে পাহাড়ের পাদদেশ থেকে তাকে উদ্ধার করা হয়। ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে ১ নারীসহ ৪ জনকে আটক করা হয়েছে।

অপহৃত শিশু খায়রুল আমিন টেকনাফের হ্নীলা মৌলভী বাজার নাইক্ষ্যংখালী গ্রামের মো. ইউনুস ছেলে। সে মৌলভী বাজার ইসলামিক আজিজিয়া ফয়জুল উলুম মাদ্রাসার হিফজ বিভাগের শিক্ষার্থী।

আটককৃতরা হলেন- নুর মোহাম্মদের পুত্র মো. আলম (২৭), মৃত ইজ্জত আলীর পুত্র আহমদ হোসেন (৫২), আহমদ হোসেনের পুত্র মো. পারভেজ (২০) ও সাইফুল ইসলামের স্ত্রী আজিজা খাতুন (২১)। এরা সকলেই হ্নীলা ইউনিয়নের মরিচ্যাঘোনা এলাকার বড়বিল গ্রামের বাসিন্দা।

টেকনাফ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আবদুল হালিম জানান, গত ১৬ জুন সকালে হ্নীলা বাজার থেকে রঙ্গিখালী বন্ধু ফরহাদের বাসায় যাওয়ার জন্য হ্নীলা বাজার থেকে জনৈক আলমের টমটম গাড়িতে উঠে। পানখালী যাওয়ার পথে খায়রুলের বন্ধু ফরহাদ (১২) এর সাথে দেখা হয়। ফরহাদ তাকে তার বাসায় যাওয়ার জন্য বলে এবং কিছুক্ষণ পরে হ্নীলা বাজার থেকে আসার কথা বলে। খায়রুলকে নিয়ে ড্রাইভার আলম পানখালী যাওয়ার পথে কৌশলে তার অপর সহযোগীকে গাড়িতে তোলে। পূর্ব পরিকল্পনা মোতাবেক খায়রুলকে নিয়ে রঙ্গিখালী পাহাড়ের ঢালায় নিয়ে যায়। সেখানে খায়রুল আমিনের হাত বেঁধে ভয়ভীতি দেখাতে থাকে। কিছুক্ষণ পর ড্রাইভার আলম তার গাড়ি নিয়ে সেখান থেকে চলে আসে।

একইদিন রাত ১০টায় খায়রুলকে পাহাড়ের উপরে তুলে অবস্থান করতে থাকে এবং রাত ১টায় তাকে নিয়ে একজন অপহরণকারীর বাড়িতে চলে আসে। তার বাড়িতে নিয়ে আসলে আজিজা খাতুন ভিকটিম ও তার স্বামীকে খাবার খেতে দেয় এবং তার বাড়িতে রাতে আটক রাখে।

পরদিন ভোরে টমটম ড্রাইভার আলমের গাড়িতে করে অপহরণকারীরা ভিকটিমকে পাহাড়ের পাদদেশে নিয়ে পুনরায় পাহাড়ের উপরে উঠে অবস্থান করতে থাকে এবং রাত ১টায় অপহরণকারীরা ভিকটিমকে সামনে রেখে তার মায়ের মোবাইলে ফোন করে ৬ লাখ টাকা মুক্তিপণ দারি করে। এ সময় অপহরণকারীরা ভিকটিমকে গাছের ডাল দিয়ে মারধর করে ভিকটিমের মাকে কান্না শোনায়।

ভিকটিমের মামা থানায় নিখোঁজ ডায়রি করার পর বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্ব সহকারে নেওয়া হয়। অপহরণকারীদের অবস্থান জেনে স্থানীয় লোকজন ও গ্রাম পুলিশের সহায়তায় দফায় দফায় পাহাড়ের উপর বিভিন্ন ঘর-বাড়ি তল্লাশি করা হয়। অপহরণকারীরা অত্যন্ত সুচতুর হওয়ায় বার বার অবস্থান পরিবর্তন করতে থাকে।

 

এইচ এম কাদের,সিএনএন বাংলা ২৪