ই-পেপার | বৃহস্পতিবার , ১৩ই জুন, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ

কক্সবাজারে সহস্রাধিক পানচাষির ক্ষতি ৪ কোটি টাকা

নিজস্ব প্রতিবেদক : ঘূর্ণিঝড় মোখায় কক্সবাজার জেলায় প্রায় চার কোটি টাকার পানবরজ নষ্ট হয়ে গেছে। ফলে লোকসানের মুখে পড়েছেন অন্তত এক হাজার ৭০ জন চাষি। তবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হয়েছে টেকনাফ উপজেলায়। সেখানে এক হাজার ৩০ জন পান চাষির ৩ কোটি ৭২ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে।

 

কক্সবাজার কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সিএনএন বাংলা২৪কে এসব তথ্য নিশ্চিত করেছে।জানা গেছে, কক্সবাজারের ৯ উপজেলার মধ্যে কুতুবদিয়া ছাড়া অন্য সব উপজেলায় পানের চাষ হয়। এবছর জেলায় ৩৫ হাজার পানচাষি ৩ হাজার হেক্টর জমিতে পান চাষ করেছেন। এর মধ্যে ঘূর্ণিঝড় মোখায় এক হাজার ৭০ জন পান চাষি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। তাদের মোট ক্ষতির পরিমাণ ৩ কোটি ৯০ লাখ টাকা। এদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি টেকনাফ উপজেলার পানচাষিরা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। উপজেলাটির ১ হাজার ৩০জন পানচাষির ৩ কোটি ৭২ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে।

 

পানচাষীদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, কয়েক বছরের তুলনায় এবছর পানের ভালো ফলন হয়। কিন্তু ঘূর্ণিঝড় মোখা’য় তছনছ হয়ে গেছে পানের বরজ।টেকনাফ উপজেলার কয়েকটি এলাকায় সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়, ঘূর্ণিঝড় মোখার আঘাতে পানের বরজগুলো মাটির সাথে মিশে গেছে।

 

টেকনাফের রাজারছড়া গ্রামের পানচাষি হাসান আলি সিএনএন বাংলা২৪কে বলেন, এক মৌসুমের জন্য বিশ হাজার টাকার বিনিময়ে একটি জমি ভাড়া নিয়ে পান চাষ করেছি। এতে ২ লাখ টাকা খরচ হয়েছে। কিন্তু ঘূর্ণিঝড় মোখায় পানের বরজটি মাটির সাথে মিশে গেছে।

 

হাসান আলি বলেন, আমার পরিবারে ১০ জন সদস্য রয়েছে। আমার একার আয় দিয়ে পুরো সংসার চলে। পানের বরজে তার আড়াই লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করেন এই পানচাষি একই এলাকার পানচাষি আবুল কাশেম সিএনএন বাংলা২৪কে বলেন, আমি এবারে ৯০ বিঘা জমিতে পান চাষ করেছিলাম। ঘূর্ণিঝড়ে প্রায় ১০ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে।পানচাষি নুরুল হক বলেন, এক বিঘা জমিতে পান চাষ করে গত মাসে আমি ত্রিশ হাজার টাকার পান বিক্রি করেছি। কিন্তু ঘূর্ণিঝড় মোখা পান গাছগুলো মাটির সাথে মিশে দিয়েছে। এতে আমার আড়াই লাখ টাকা ক্ষতি হয়েছে।

 

তিনি কাতর কন্ঠে বলেন, এই বছরের মতো এতো বড় ক্ষতি আর কখনো হয়নি। ঋণগ্রস্ত চাষিরা পান বিক্রি করে ঋণ পরিশোধ করেন। এবার বরজ নষ্ট হওয়ায় চাষিরা ঋণ পরিশোধ করতে হিমশিম খাবেন বলেও জানান তিনি।টেকনাফ উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান নুরুল আলম সিএনএন বাংলা২৪কে বলেন, টেকনাফের কয়েক হাজার কৃষক পান বরজের ওপর নির্ভরশীল। ধার-দেনা করে তারা পানের চাষ করেন।তিনি আরও জানান, এই উপজেলায় আবাদ করা প্রায় ৫০ শতাংশ পানবরজ ঘূর্ণিঝড় মোখায় নষ্ট হয়ে গেছে। ইতোমধ্যে ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা করা হয়েছে।

 

কক্সবাজার জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপসহকারী কৃষি অফিসার আশিস কুমার দে সিএনএন বাংলা২৪কে বলেন, অনুকূল আবহাওয়ার কারণে পান চাষে এবার বাম্পার ফলন হয়েছিল।গত কয়েক বছর পানে ভালো দাম পাওয়ায় চাষিরা এবার ধানি জমিতেও পানের বরজ করেন।কিন্তু ঘূর্ণিঝড় মোখার কারণে পানচাষিদের সর্বনাশ হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকের তালিকা তৈরি করা হয়েছে। তালিকাটি মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে।

 

রিপোর্টঃ এইচ.এম.সালাহ উদ্দিন কাদের।