ই-পেপার | মঙ্গলবার , ১৮ই জুন, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ

ওসিকে শিক্ষা উপমন্ত্রীর বডি গার্ডের ধাক্কা, থানায় জিডি

নিজস্ব প্রতিবেদক : অভিযুক্ত সন্তু শীল,চট্টগ্রাম নগরের কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) ধাক্কা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে সন্তু শীল নামে বিশেষ শাখার (সিটি এসবি) এক সহকারী উপ-পরিদর্শকের (এএসআই) বিরুদ্ধে।

 

অভিযুক্ত সন্তু প্রায় চার বছর ধরে শিক্ষা উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেলের বডি গার্ড হিসেবে কর্মরত। এ ঘটনায় নিজ থানায় জিডি করেছেন কোতোয়ালি থানার ওসি জাহিদুল কবির। পাশাপাশি তিনি নগর পুলিশ কমিশনার বরাবরে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।

 

বৃহস্পতিবার (২১ এপ্রিল) দুপুর ২টা ২৫ মিনিটের দিকে নগরের কোতোয়ালি থানার পাথরঘাটা এলাকায় শিক্ষা উপমন্ত্রী নওফেল নিজ সংসদীয় আসনে ঈদ সামগ্রী বিতরণ করতে গেলে এ ঘটনা ঘটে।

 

শুক্রবার প্রত্যক্ষদর্শী এক পুলিশ কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে ঢাকা পোস্টকে বলেন, বৃহস্পতিবার লালদিঘী মাঠে চট্টগ্রাম মহানগর ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি জাফর আহমেদের জানাজায় উপস্থিত হন শিক্ষা উপমন্ত্রী নওফেল। এ সময় কোতোয়ালি থানার ওসি তাকে রিসিভ করেন। জানাজা শেষে উপমন্ত্রী থানার পাথরঘাটা নজু মিয়া লেনে ঈদ সামগ্রী বিতরণ করতে যান। সেখানে যাওয়ার পথে উপমন্ত্রীর সঙ্গে থাকা বডি গার্ড সন্তু ওসি জাহিদুল কবিরের একটু সামনে গিয়ে পেছন থেকে সজোরে হাতের কনুই দিয়ে ধাক্কা দেন। এতে ওসি ডান হাতে আঘাতপ্রাপ্ত হন। এরপর ওসি তৎক্ষণাৎ বিষয়টি নিয়ে উপমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। পরে উপমন্ত্রী ওসিকে ডেকে পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের কাছে অভিযোগ দিতে বলেন এবং বিষয়টি নিয়ে তিনি ওসিকে ব্যবস্থা নেবেন বলে আশ্বস্ত করেছেন।

 

পুলিশের নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা গেছে, শিক্ষা উপমন্ত্রীর বডি গার্ড হিসেবে কোতোয়ালি থানার ওসিকে নানা বিষয়ে তদবির করতেন সন্তু। তবে কয়েকমাস আগে তাকে ওসি তাকে কোনো বিষয়ে তদবির করতে বারণ করেন। এ নিয়ে ক্ষুব্ধ ছিলেন এএসআই সন্তু।

 

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সন্তু শীলের বিরুদ্ধে এর আগে কোতোয়ালি থানার সাবেক ওসি নেজাম উদ্দিন, পটিয়া থানার ওসি প্রিটন সরকার, বন্দর থানার সাবেক ওসি জাহিদুল কবিরের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগ পাওয়া গেছে। ওসি নেজাম উদ্দিন তার বিরুদ্ধে ২০১৯ সালে একবার জিডি করেছিলেন।

 

ভুক্তভোগী কয়েকজন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, অধস্তন কর্মকর্তা হলেও সন্তু বেশ প্রভাবশালী। এজন্য তার বিরুদ্ধে কেউ মুখ খোলার সাহস করেননি। অনেকটা নীরবে সহ্য করেছেন তার অত্যাচার। তবে সবশেষ বৃহস্পতিবার ওসি জাহিদুল কবিরের সঙ্গে পুনরায় একই ঘটনা হলে বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত সন্তুর বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা। না হয় রাষ্ট্রের শৃঙ্খলিত এই বাহিনীর চেইন অব কমান্ড ভেঙে পড়বে এবং বাহিনীর ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হবে বলে জানিয়েছেন তারা।

 

অভিযোগের বিষয়ে জানতে এএসআই সন্তু শীলের ব্যবহৃত সেলফোনে একাধিকবার কল করা হলেও সংযোগ পাওয়া যায়নি।কোতোয়ালি থানার ওসি জাহিদুল কবিরের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি জিডির বিষয়টি সত্যতা নিশ্চিত করেন। তবে ঘটনার বিষয়টি নিয়ে তিনি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।

 

নগর পুলিশের দক্ষিণ জোনের উপ-কমিশনার (ডিসি) মোস্তাফিজুর রহমান ঢাকা পোস্টকে বলেন, এ রকম একটি ঘটনা ঘটেছে। ভুক্তভোগী ওসি বিষয়টি নগর পুলিশ কমিশনার বরাবরে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। তিনি বিষয়টি তদন্ত করে ব্যবস্থা নেবেন।