ই-পেপার | মঙ্গলবার , ১৮ই জুন, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ

খুলনায় রাত পোহালেই ভোট উৎসব

নিজস্ব প্রতিবেদক, খুলনা

অপেক্ষা আর মাত্র কয়েক ঘণ্টা। রাত পোহালেই খুলনা সিটি কর্পোরেশনের ভোট। সোমবার (১২ জুন) সকাল ৮টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত বিরতিহীনভাবে চলবে ভোটগ্রহণ।

ভোটগ্রহণের সব ধরনের প্রস্তুতি ইতোমধ্যে সম্পন্ন করেছে নির্বাচন কমিশন। এবারই প্রথম খুলনা সিটির সব কেন্দ্রে ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিনে (ইভিএম) ভোট গ্রহণ করা হবে; থাকবে কড়া নিরাপত্তাবেস্টনী ও কেন্দ্রীয়ভাবে সিসি ক্যামেরায় মনিটরিংয়ের ব্যবস্থা। নগরীর ৩১ টি ওয়ার্ডে ২৮৯টি কেন্দ্রে পৌঁছে গেছে নির্বাচনী সরঞ্জাম।শনিবার মধ্য রাতে শেষ হয় প্রার্থীদের প্রচার-প্রচারণা। এখন ভোটের অপেক্ষা।

নির্বাচনে প্রার্থীর সংখ্যা

খুলনা সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে মেয়র, সাধারণ ও সংরক্ষিত ওয়ার্ড কাউন্সিলর পদের জন্য মাঠে নেমেছেন মোট ১৮০ জন প্রার্থী। তাদের মধ্যে মেয়র পদে ৫ জন, সাধারণ কাউন্সিলর পদে ১৩৬ জন ও সংরক্ষিত ওয়ার্ড কাউন্সিলর পদে ৩৯ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত

কেসিসি নির্বাচনে দুটি ওয়ার্ডে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় দুই আওয়ামী লীগ নেতা কাউন্সিলর হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন। তারা হলেন, নগরীর ১৩ নম্বর ওয়ার্ডে এসএম খুরশিদ আহম্মেদ টোনা ও ২৪ নম্বর ওয়ার্ডে জেড এ মাহমুদ ডন। এসএম খুরশিদ আহম্মেদ টোনা ১৩ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহসভাপতি ও মহানগর আওয়ামী লীগের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক।

সিটিতে ভোটার সংখ্যা

খুলনা সিটির ৩১টি ওয়ার্ডে মোট ভোটার ৫ লাখ ৩৫ হাজার ৫২৯ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ২ লাখ ৬৮ হাজার ৮৩৩ জন এবং নারী ভোটার ২ লাখ ৬৬ হাজার ৬৯৬ জন।

মেয়র পদে লড়ছেন যারা

খুলনা সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে মেয়র পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী তালুকদার আবদুল খালেক (নৌকা), জাতীয় পার্টির মো. শফিকুল ইসলাম মধু (লাঙল), ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ মনোনীত মো. আব্দুল আউয়াল (হাতপাখা), জাকের পার্টির এসএম সাব্বির হোসেন (গোলাপ ফুল) এবং একমাত্র স্বতন্ত্র প্রার্থী এসএম শফিকুর রহমান মুশফিক (দেয়াল ঘড়ি)।

মেয়র প্রার্থীরা যেখানে ভোট দেবেন

সোমবার সকাল ৯টায় নগরীর ২২নং ওয়ার্ডের সাউথ সেন্ট্রাল রোডে পাইওনিয়ার মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয় কেন্দ্রে ভোট দেবেন আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থী তালুকদার আবদুল খালেক। ইসলামী আন্দোলনের মেয়র প্রার্থী মো. আব্দুল আউয়াল সকাল ১০টায় নগরীর ২৬নং ওয়ার্ডের বানিয়াখামার এলাকার দারুল কোরআন বহুমুখী মাদরাসা কেন্দ্রে, জাতীয় পার্টির মো. শফিকুল ইসলাম মধু সকাল সাড়ে ১০টায় নগরীর ১৭নং ওয়ার্ডের সোনাডাঙ্গা আবাসিক এলাকার কলেজিয়েট স্কুল কেন্দ্রে, সকাল ৯টায় মতিয়াখালি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে জাকের পার্টির এস এম সাব্বির হোসেন, আর সকাল ১০টায় আলিয়া মাদরাসা কেন্দ্রে ভোট দেবেন স্বতন্ত্র মেয়র প্রার্থী এসএম শফিকুর রহমান মুশফিক। এছাড়া সাধারণ ৩১টি সাধারণ ওয়ার্ডে এবং ১০টি সংরক্ষিত ওয়ার্ডে কাউন্সিলর প্রার্থীরা নিজ নিজ কেন্দ্রে ভোট দেবেন।

সাধারণ ওয়ার্ডে দুই নারী প্রার্থী

খুলনা সিটি করপোরেশন (কেসিসি) নির্বাচনে দুই নারী সাধারণ কাউন্সিলর পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তারা হলেন, ১৯ নম্বর ওয়ার্ডের রোজিনা শেখ আয়শা ও ৩০ নম্বর ওয়ার্ডের ফরিদা বেগম। মোট ছয় জন নারী প্রার্থী মনোনয়নপত্র জমা দিলেও শেষ মুহূর্তে চার জন তা প্রত্যাহার করে নেন।

 

ভোটের লড়াই‌য়ে দুই সাংবাদিক

ক্যামেরা হাতে ছবি তোলা তাদের পেশা। কিন্তু নেশা অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানো, সেবা করা। এলাকাবাসীর অনুরোধে নেশাকে পেশায় রূপ দিতে ভোটের মাঠে নেমেছেন তারা। বলা হচ্ছে খুলনার সংবাদপত্র জগতের দুই মেধাবী মুখ আনোয়ারুল ইসলাম কাজল ও রবিউল ইসলাম উজ্জ্বলের কথা। পরোপকারী ও বন্ধুবৎসল ব্যক্তি হিসেবে পরিচিতি পাওয়া দুই ফটো সাংবাদিক এবার কেসিসি নির্বাচনে কাউন্সিলর পদে প্রার্থী হয়েছেন। আনোয়ারুল ইসলাম কাজল খুলনার স্থানীয় দৈনিক পূর্বাঞ্চলের সিনিয়র ফটো সাংবাদিক। খুলনা সাংবাদিক ইউনিয়নের সাবেক সভাপতি ও খুলনা প্রেসক্লাবের সহকারী সম্পাদক তিনি। খুলনা মহানগরীর ১১নং ওয়ার্ড থেকে কাউন্সিলর পদে নির্বাচন করছেন কাজল।

অন্যদিকে দৈনিক সময়ের খবরের সিনিয়র ফটো সাংবাদিক রবিউল ইসলাম উজ্জ্বল। তিনি উদীয়মান যুব সমাজের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি। খুলনা মহানগরীর ১২নং ওয়ার্ড থেকে কাউন্সিলর পদে নির্বাচন করছেন তিনি।

নির্বাচনকে ঘিরে ৫ স্তরের নিরাপত্তা

ভোটের পরিবেশ শান্তিপূর্ণ রাখতে নির্বাচনী এলাকায় মোতায়েন করা হয়েছে ১১ প্লাটুন বিজিবি, র‍্যাবের ১৬টি টিম, পুলিশ-এপিবিএন-ব্যাটালিয়ন আনসারে ৪৯টি টিম। নির্বাচনে ভোটকেন্দ্র ও নগরীর নিরাপত্তায় দায়িত্ব পালন করবেন পুলিশ, র‍্যাব, বিজিবি, আনসারসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রায় ৮ হাজার ৩০০ জন সদস্য। নির্বাচনী মাঠে থাকবেন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট এবং জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট। ভোটগ্রহণের দায়িত্বে থাকবেন ৫ হাজার ৭৬০ জন কর্মকর্তা। পর্যবেক্ষক থাকবেন বেসরকারি দুটি সংস্থার ২০ জন ও নির্বাচন কমিশনের ১০ জন।

খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশ (কেএমপি) কমিশনার মো. মাসুদুর রহমান ভূঁঞা বলেন, খুলনা সিটি করপোরেশন নির্বাচনকে ঘিরে নির্বাচনী এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। নির্বাচনে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রায় ৮ হাজার ৩০০ সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন সম্পন্নের লক্ষ্যে সকল ধরনের পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে।

র‌্যাব-৬ খুলনার অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. ফিরোজ কবীর বলেন, শহরের প্রবেশ ও বাহিরের পথসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে র‌্যাবের চেকপোষ্ট স্থাপন করা হয়েছে। সাদা পোশাকে আমাদের গোয়েন্দারা বিভিন্ন স্থানে তথ্য সংগ্রহে নিয়োজিত রয়েছে। ভোটকেন্দ্র ও আশেপাশে যাতায়াত পথের নিরাপত্তা নিশ্চিতকল্পে ইতিমধ্যে র‌্যাবের বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিটের সদস্যরা কাজ করছে। আমাদের ১৬টি পেট্রোল নির্বাচন চলাকালীন সার্বক্ষনিক নিরাপত্তা নিশ্চয়তায় মোবাইল পেট্রোলিং এবং স্ট্যাটিক পজিশনিং এর মাধ্যমে নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে। যেকোন বিপর্যয় মোকাবেলায় প্রয়োজনীয় সংখক রিজার্ভ ফোর্স প্রস্তুত রাখা হয়েছে।

কেসিসি নির্বাচনের রিটার্নিং কর্মকর্তা মো. আলাউদ্দীন জানান, নির্বাচনে ৫ স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা থাকবে।অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। সোমবার সকাল ৮টা থেকে খুলনা সিটি নির্বাচনের ভোট শুরু হয়ে চলবে বিকেল ৪টা পর্যন্ত। নির্বাচনের ফল ঘোষণা করা হবে খুলনা জেলা শিল্পকলা একাডেমি অডিটোরিয়ামে।

ভোটের মাঠে নির্বাহী এবং বিচারিক ম্যাজিস্ট্রেট

কেসিসির নির্বাচনী এলাকায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষার পাশাপাশি বিভিন্ন অপরাধ প্রতিরোধ এবং নির্বাচনী আচরণবিধি প্রতিপালনের জন্য ৪৩ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগ করা হয়েছে। এছাড়া সংক্ষিপ্ত বিচারকাজ সম্পন্ন করতে দায়িত্ব পালন করছেন ১০ জন বিচারিক ম্যাজিস্ট্রেট।

ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্র ১৬১টি

এবারের নির্বাচনে ২৮৯টি ভোট কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ করা হবে। এসব কেন্দ্রের মধ্যে ১৬১ কেন্দ্রকে ঝুঁকিপূর্ণ এবং ১২৮টি কেন্দ্রকে সাধারণ কেন্দ্র হিসেবে চিহ্নিত করেছে পুলিশ। সাধারণ কেন্দ্রের তুলনায় ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রে বাড়তি নিরাপত্তা থাকবে।

খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার মাসুদুর রহমান ভূঁইয়া জানান, ভোটার সংখ্যা, প্রার্থীর বাড়িসংলগ্ন কেন্দ্র, প্রভাব বিস্তার, যাতায়াতসহ বেশ কয়েকটি বিষয় বিবেচনায় নিয়ে এই তালিকা করা হয়েছে। ঝুঁকিপূর্ণ প্রতিটি কেন্দ্রে ৭ পুলিশ ও ১৭ আনসার সদস্য মোতায়েনের সিদ্ধান্ত হয়েছে। সাধারণ কেন্দ্রে থাকবেন ৭ পুলিশ ও ১৫ আনসার সদস্য।

সব কেন্দ্রে পৌঁছেছে ভোটের সরঞ্জাম

খুলনা সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন উপলক্ষ্যে ৩১টি ওয়ার্ডে ২৮৯টি ভোটকেন্দ্র ও এক হাজার ৭৩২টি ভোটকক্ষ স্থাপন করা হয়েছে। রোববার (১১ জুন) বেলা সাড়ে ১১টায় খুলনা বিভাগীয় মহিলা ক্রীড়া কমপ্লেক্স থেকে ভোটকেন্দ্রের প্রিজাইডিং কর্মকর্তার কাছে নির্বাচনী সরঞ্জাম হস্তান্তর করা হয়। নির্বাচন সংশ্লিষ্টরা উৎসবমুখর পরিবেশে এসব নির্বাচনী সরঞ্জাম সংগ্রহ করেছেন। ইভিএম, বুথ কক্ষ নির্মাণের জন্য কাপড়, টিস্যু পেপার, অমোছনীয় কালি, হ্যান্ড সেনিটাইজার, ভোটার তালিকা, ভ্যাসলিন, মখমলের কাপড়, স্ক্রু ড্রাইভার, মাল্টিপ্ল্যাগসহ ৪৬ ধরনের সামগ্রী বিতরণ করা হয়েছে।

সিসি ক্যামেরা স্থাপন

কেসিসি নির্বাচনের ভোটকেন্দ্র ও ভোট কক্ষে স্থাপন করা হয়েছে ২ হাজার ৩১০টি ক্লোজ সার্কিট ক্যামেরা (সিসি ক্যামেরা)। সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য এই সিসি ক্যামেরা বসানো হয়েছে। প্রতিটি বুথের সামনে একটি ও কেন্দ্রের বাইরের অংশে ২টি করে সিসি ক্যামেরা থাকবে।

এবারই প্রথম সিটির সব কেন্দ্রে ইভিএমে ভোট

এবারই প্রথম খুলনা সিটিতে ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিনে (ইভিএম) ভোটগ্রহণ হচ্ছে। ২৮৯টি কেন্দ্রে ভোটগ্রহণের জন্য প্রায় ৩ হাজার প্রস্তুত রাখা হয়েছে। ইভিএমে কারিগরি সমস্যা দেখা দিলে তা দ্রুত সরানোর জন্য প্রস্তুতি হিসেবে প্রতি কেন্দ্রে একজন করে ট্রাবলশুটার, প্রতি দুই কেন্দ্রে একজন করে জন (ভ্রাম্যমাণ) টেকনিক্যাল এক্সপার্ট থাকবেন। এছাড়া সহকারী প্রোগ্রামার এবং প্রোগ্রামার থাকবেন।

নির্বাচনী ট্রাইব্যুনাল গঠন

নির্বাচনী বিরোধ সংক্রান্ত দরখাস্ত/আপিল গ্রহণ, শুনানি ও নিষ্পত্তির জন্য নির্বাচনী ট্রাইব্যুনাল ও নির্বাচনী আপিল ট্রাইব্যুনাল গঠন করেছে নির্বাচন কমিশন। ৪ জুন কমিশন সচিবালয়ের এক প্রজ্ঞাপনে এ তথ্য জানানো হয়।

নির্বাচনী ট্রাইব্যুনালে দায়িত্ব পালন করবেন খুলনা সদর সিনিয়র সহকারী জজ আদালতের সিনিয়র সহকারী জজ এবং নির্বাচনী আপিল ট্রাইব্যুনালে দায়িত্ব পালন করবেন অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ প্রথম আদালত এবং খুলনার অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট।

নতুন ভোটারে জয়-পরাজয়

কেসিসির নতুন ভোটার বেড়েছে ৪২ হাজার ৪৩৫জন। এই নতুন ভোটারদের ওপর নির্ভর করছে অনেকাংশে কেসিসির মেয়র ও কাউন্সিলর প্রার্থীদের জয়-পরাজয়। নতুন এই ভোটারদের কথা মাথায় রেখেই মেয়র ও কাউন্সিলর প্রার্থীরা আধুনিক, গ্রীন-ক্লিন সিটি, পরিকল্পিত নগরী, ডিজিটাল ও স্মার্ট নগরীতে পরিণত করার পাশাপাশি প্রচার-প্রচারণা ও নির্বাচনী ইশতেহারে শিল্প কলকারখানা গড়ে তোলাসহ কর্মসংস্থান সৃষ্টির প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।

যানবাহন চলাচলে নিষেধাজ্ঞা

খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার মাসুদুর রহমান ভূঞা স্বাক্ষরিত গণবিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, নির্বাচনী এলাকায় ১১ জুন দিবাগত মধ্যরাত ১২টা থেকে ১২ জুন দিবাগত মধ্যরাত পর্যন্ত লঞ্চ, ইঞ্জিনচালিত সব ধরণের নৌযান ও স্পিডবোটের চলাচলের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে। তবে ইঞ্জিন চালিত ক্ষুদ্র নৌযান এবং জনগণ তথা ভোটারদের চলাচলের জন্য ব্যবহৃত ক্ষুদ্র নৌযান নিষেধাজ্ঞা বহির্ভূত থাকবে।

এছাড়া নির্বাচনী এলাকায় ১১ জুন দিবাগত মধ্যরাত ১২টা থেকে ১২ জুন দিবাগত মধ্যরাত পর্যন্ত ট্রাক, বাস, মিনিবাস, মাইক্রোবাস, জিপ, পিকআপ, কার এবং ইজিবাইক চলাচলের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে।

তবে নিষেধাজ্ঞা রিটার্নিং অফিসারের অনুমতি সাপেক্ষে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী/ তাদের নির্বাচনী এজেন্ট, দেশী/বিদেশি পর্যবেক্ষকদের (পরিচয়পত্র থাকতে হবে) ক্ষেত্রে শিথিলযোগ্য। তাছাড়া নির্বাচনের সংবাদ সংগ্রহের কাজে নিয়োজিত দেশী/বিদেশী সাংবাদিক (পরিচয়পত্র থাকতে হবে), নির্বাচনের কাজে নিয়োজিত কর্মকর্তা-কর্মচারী, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য, নির্বাচনের বৈধ পরিদর্শক এবং কতিপয় জরুরি সেবা যেমন- অ্যাম্বুলেন্স, ফায়ার সার্ভিস, বিদ্যুৎ, গ্যাস, ডাক, টেলিযোগাযোগ ইত্যাদি কার্যক্রমে ব্যবহারের জন্য নৌযান চলাচলের ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞা প্রযোজ্য হবে না।

এছাড়া জাতীয় মহাসড়ক, বন্দর ও জরুরি পণ্য সরবরাহসহ অন্যান্য জরুরি প্রয়োজনে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এ নিষেধাজ্ঞা শিথিল করতে পারবেন।

সাধারণ ছুটি ঘোষণা

কেসিসি নির্বাচন উপলক্ষে সোমবার (১২ জুন) খুলনা মহানগরী এলাকায় ছুটি ঘোষণা করেছে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়। এক প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, নির্বাচন কমিশনের চাহিদা মোতাবেক ভোট গ্রহণের দিন সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হলো।

এইচ এম কাদের,সিএনএন বাংলা২৪: