ই-পেপার | বৃহস্পতিবার , ১৩ই জুন, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ

ক্ষমতায় থেকে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড হবে না : ডা. তাহের

সিএনএন বাংলা২৪,ঢাকা:

জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নায়েবে আমির ডা. সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের বলেছেন, তারা (আওয়ামী লীগ) নাকি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন চায়, আমরাও চাই। কিন্তু ক্ষমতায় থেকে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড হবে না। ক্ষমতা থেকে নামুন। মাঝখানে নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকার ক্ষমতা গ্রহণ করুক। নিরপেক্ষ নির্বাচনের প্রধান শর্তই হচ্ছে, সবার সমান সুযোগ পাওয়া। ২০১৪ গেছে, ২০১৮-ও গেছে। কিন্তু ২০২৩ এভাবে যাবে না। এটাই শেষ। এবার নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচন হতে হবে। সংবিধান প্রয়োজনে সংশোধন করতে হবে।

শনিবার (১০ জুন) রমনার ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ জামায়াত আয়োজিত সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।

ঢাকা মহানগর দক্ষিণ জামায়াতের আমির নুরুল ইসলাম বুলবুলের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, জামায়াতে ইসলামী সন্ত্রাস, নাশকতা, বিশৃঙ্খলায় বিশ্বাস করে না। সকল সমস্যার সমাধান কেবলমাত্র ইসলামেই আছে। এখানে কোনো ধরনের নাশকতার স্থান নেই।

তিনি বলেন, দেশের প্রধান প্রধান দল সম্পর্কে সঠিক ও সুস্পষ্ট ধারণা থাকতে হবে। পত্রিকা পড়ে, কোনো কোনো লেখকের লেখা পড়ে জামায়াতে ইসলামীকে মূল্যায়ন করলে চলবে না। জামায়াতে ইসলামী দেশের তৃতীয় বৃহত্তম সুশৃঙ্খল আদর্শবাদী ইসলামী সংগঠন।

তিনি বলেন, সোনার বাংলা গড়ার পর, সোনার মানুষ, সৎ মানুষের প্রয়োজন ছিল। কিন্তু যারা সোনার বাংলা গড়তে চেয়েছেন, তারা সোনার মানুষ বানাতে পারেননি। তাদের ব্যর্থতা পূরণে কাজ করছে জামায়াতে ইসলামী ও ইসলামী ছাত্রশিবির।

 

দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, পরিস্থিতি এমন অবস্থায় যাচ্ছে, এখন বস্তা ভরে টাকা নিয়ে বাজারে গেলে পকেট ভরে বাজার নিয়ে আসতে হয়। জাতির জন্য এখন একটাই প্রয়োজন, সেটা হলো জাতীয় ঐক্য। দলমত নির্বিশেষ জাতীয় ঐক্য গড়ে তুলতে হবে। বর্তমান কঠিন পরিস্থিতি থেকে উন্নত বাসযোগ্য বাংলাদেশ গড়ে তুলতে সবার ভূমিকা পালন করতে হবে।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল সাবেক সংসদ সদস্য এ এইচ এম হামিদুর রহমান আজাদ বলেন, আকাশে কালো মেঘ থাকবে না। আজ নতুন সূর্য উদয় হয়েছে। আজকে হয়ত ঘরবন্দি সমাবেশের অনুমতি দিয়েছেন, তবে আগামীতে প্রকাশ্যে, রাজপথে দাবি আদায়ের সংগ্রামের নেতৃত্ব দেবে জামায়াতে ইসলামী। জগদ্দল পাথরকে সরাতে হলে, অধিকার কখনো কেউ দেয় না, আন্দোলনে সংগ্রামে আদায় করে নিতে হয়। আমাদের সেই প্রস্তুতি নিতে হবে।

তিনি বলেন, আজকে বহু বছর পর সমাবেশ। সেই ১০ বছর আগে শাপলা চত্বরে সমাবেশ করেছি। আর অনুমতি নিয়ে সমাবেশ করা সম্ভব হয়নি। এটা কি আইনের শাসন নাকি জুলুমতন্ত্র? এই জুলুমবাজি করে সরকার জামায়াতে ইসলামীর কোনো ক্ষতি করতে পারেনি, নিজেরাই জুলুমবাজে পরিণত হয়েছেন ইতিহাসে কালী লেপন করেছেন।

হামিদুর রহমান বলেন, জেল খেটে বেরিয়ে জনতার আন্দোলনে শামিল হয়েছি, হামলা করে, মামলা করে কণ্ঠস্বর স্তব্ধ করতে পারবেন না। যে কথা, যে কণ্ঠস্বর আজ উচ্চারিত হয়েছে সেটি আর স্তব্ধ করা যাবে না, সম্ভব না।

তিনি বলেন, জামায়াতের ১০ দফা দাবি, যেটি ঘোষণার কারণে কোনো ওয়ারেন্ট ছাড়া আমিরকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। জামায়াতকে ভয় পান? বিরোধীদের ভয় পেলে রাজনীতি ছেড়ে দেন। মুখে বলেন, গণতন্ত্র ক্ষমতায় গেলে বাকশাল। বর্তমান সরকারের মেয়াদ শেষ। আমাদের ১০ দফা আন্দোলনের অন্যতম হচ্ছে কেয়ারটেকার সরকারের অধীনে হবে আগামী নির্বাচন।

সরকারের সুর পাল্টেছে দাবি করে হামিদুর রহমান বলেন, বিরোধী দলকে ফাঁদে ফেলে সুষ্ঠু নির্বাচনের কথা বলে দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন করতে চায় আওয়ামী লীগ। সেটি আর নয়, আপনাদের অধীনে সুষ্ঠু নির্বাচন যে হয় না সেটি আজ প্রমাণিত। সেই রুটিন রক্ষার কোনো নির্বাচন আর হতে দেব না। শেখ হাসিনা কথা রাখেন না। তার কথা শুনে এখন তার আশপাশের লোকজনও এখন হাসে। দিনের ভোট রাতের বেলায় হওয়া নিয়ে বিদেশি রাষ্ট্রদূতরাও হাসে। আওয়ামী লীগ যতো কথাই বলুক, প্রতারিত দল ও হাসিনার কথায় আর বিশ্বাস নয়, কেয়ারটেকার সরকারের অধীনেই দিতে হবে জাতীয় নির্বাচন।

সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা আব্দুল হালিম বলেন, জামায়াতে ইসলামী আদর্শিক দল, পুরান দল, যারা জনগণের ম্যান্ডেড নিয়ে ক্ষমতায় অংশীদার হওয়ার দল। আজকে প্রমাণ হয়েছে শান্তিপ্রিয় দলের নাম জামায়াতে ইসলামী। জামায়াতে ইসলামী কোনো কর্মীর বিরুদ্ধে বিশৃঙ্খল বলার সুযোগ নেই। জামায়াতে ইসলামী একটি আন্দোলনের নাম। জামায়াতে ইসলামীকে স্তব্ধ করার জন্য নিবন্ধন বাতিলের বিষয়টি সামনে আনা হয়। ১৯৭৩, ১৯৮৮, ১৯৯৬ ও ২০১৪ সালের নির্বাচন ছাড়া জামায়াতে ইসলামী সব নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী দল। এমন দলকে নির্বাচনের বাইরে রাখতে অনেক নীল নকশা করা হয়েছে।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে ধন্যবাদ জানিয়ে মাওলানা আব্দুল হালিম বলেন, অনুমতি দিয়েছেন, ধন্যবাদ সহযোগিতা করুন। আমাদের ন্যায্য দাবির বিরুদ্ধে যদি অবস্থান নেন তবে গণদুশমনে পরিণত হবেন।

কেন্দ্রীয় প্রচার সম্পাদক অ্যাডভোকেট মতিউর রহমান আকন্দ বলেন, আমাদের সমাবেশ নিয়ে এত নাটক কেন? আমরা তো শান্তিপূর্ণ সমাবেশ করতে চেয়েছি। আমরা তো বায়তুল মোকাররমে সমাবেশ করতে চেয়েছিলাম। কোন আইনের বলে জামায়াতে ইসলামীকে নিবন্ধিত দলের তালিকা থেকে বাদ দিয়েছেন সেই কৈফিয়ত দিতে হবে নির্বাচন কমিশনকে। কারণ আদালতের তিন বিচারকের দুজন বাতিলের পক্ষে একজন বিপক্ষে মত দিয়েছেন। বিষয়টি বিচারাধীন রয়েছে।

তিনি বলেন, জামায়াতে ইসলামী একটা নির্যাতিত ও অত্যাচারিত দল। ৯৫ হাজার মামলার আসামি জামায়াতে ইসলামী নেতাকর্মীরা। আজকে আদালত আছে বিচার নেই। আদালতের সিদ্ধান্ত মানা হচ্ছে না। উচ্চ আদালতের নির্দেশনার পরও কী করে আদালত থেকে জামিন পেয়েও জেলগেট থেকে গ্রেপ্তার করা হয়?

জামায়াতকে নিয়মতান্ত্রিক গণতন্ত্রে বিশ্বাসী দল উল্লেখ করে মতিউর রহমান বলেন, জামায়াতে ইসলামী যদি কোনো সিদ্ধান্ত নেয় তবে কোনো শক্তি নেই যারা বাধা হয়ে দাঁড়ায়। অনেকে বলে জামায়াতে ইসলামী মার্কিন ভিসা নীতি ঘোষণার পর নাকি সরব হয়েছে। স্পষ্টভাবে বলতে চাই, মার্কিন ভিসা নীতি তো আওয়ামী লীগের জন্য শেখ হাসিনার জন্য, জামায়াতে ইসলামী মার্কিন ভিসানীতিতে নয়, কোরআনের নীতিতে চলে।

জামায়াতের কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য মোবারক হোসাইন বলেন, আন্দোলন ছাড়া এ সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করার সুযোগ নেই। বিদেশি শক্তির উপর ভরসা নয়, রাজপথেই ভরসা। শিক্ষা ব্যবস্থাকে ধ্বংস করে জাতিকে ধ্বংস করার পাঁয়তারা করছে সরকার। নৈতিকতার শিক্ষা সম্পন্ন শিক্ষানীতি গ্রহণ করতে হবে। আলেম ওলামাদের মুক্তি দিতে হবে।

কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী উত্তরের ভারপ্রাপ্ত আমির আ. রহমান মুসা বলেন, গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার, ভোটের অধিকার ফেরানো ছাড়া কোনো পথ নেই। যতদিন ১২ কোটি ভোটার ভোটের অধিকার না পাবে ততদিন জামায়াতে ইসলামী রাজপথে সংগ্রাম চালিয়ে যাবে।

কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের সদস্য ও ঢাকা মহানগর দক্ষিণের আমীর নূরুল ইসলাম বুলবুলের সভাপতিত্বে ও কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের সেক্রেটারি ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদের সঞ্চালনায় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, ঢাকা মহানগর দক্ষিণের নায়েবে আমির অ্যাডভোকেট ড. হেলাল উদ্দিন, কেন্দ্রীয় মজলিসে শুরা সদস্য ও ঢাকা মহানগরীর উত্তরের নায়েবে আমির ইঞ্জিনিয়ার গোলাম মোস্তফা, কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী উত্তরের সেক্রেটারি ড. মুহাম্মদ রেজাউল করিম, সহ: সেক্রেটারি মাওলানা মাহফুজুর রহমান, নাজিম উদ্দীন মোল্লা, ডা. ফখরুদ্দিন মানিক, ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সহকারী সেক্রেটারি দেলওয়ার হোসাইন, কামাল হোসাইন, ড. আব্দুল মান্নান, শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের সেক্রেটারি আতিকুর রহমান প্রমুখ।

 

এইচ এম কাদের,সিএনএন বাংলা২৪: