ই-পেপার | মঙ্গলবার , ১৮ই জুন, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ

সাংবাদিক ফরিদের একাধিক মামলা: কেউ কথা রাখেনি

নিজস্ব প্রতিবেদক : কেউ কথা রাখেনি। মিথ্যা মামলা প্রত্যাহারের আশ্বাস দিয়ে প্রত্যেকে নিজের মতো সরে গিয়েছেন। ফলে মামলার ঘানি টানতে টানতে এখন নিঃস্ব তিনি। কক্সবাজারের মেধাবী, তরুণ সাংবাদিক ফরিদুল মোস্তফা খান। পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে আজ জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে প্রতিভাবান এই সাংবাদিক।

ফরিদের পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, নিয়মিত সংবাদের প্রেক্ষিতে টেকনাফ থানার তৎকালীন অফিসার ইনচার্জ (ওসি), ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি প্রদীপ কুমার দাশের বিরুদ্ধে ‘জেলায় আইনশৃঙ্খলার উন্নতি, অপরাধে নিমজ্জিত টেকনাফের ওসি’ শিরোনামে একটি সংবাদ পরিবেশ করেন ফরিদুল মোস্তফা খান। জনগণের জানমাল রক্ষায় করা ওই নিউজই কাল হয়ে যায় ফরিদুল মোস্তফার জীবনে। ওসি প্রদীপ নানাভাবে তাকে আটকাতে জাল বুনতে শুরু করেন।

ওসি প্রদীপের নানা ষড়যন্ত্রের আভাস পেয়ে সপরিবারে ঢাকায় নিরাপদ অবস্থানে চলে যান সাংবাদিক ফরিদ। অবস্থার পরিপ্রেক্ষিতে প্রধানমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বরাবরে প্রাণের নিরাপত্তা চেয়ে আবেদনও করেন তিনি। এরই মধ্যে ২০১৯ সালের ২২ সেপ্টেম্বর প্রদীপের নির্দেশে একদল লোক ঢাকায় ভাড়া বাসা থেকে রাতের অন্ধকারে ফরিদকে তুলে নিয়ে যায়। পরে তাকে টেকনাফ নিয়ে আসা হয়। সেখানে অমানবিক শারীরিক নির্যাতন করা হয়। দুদিন পর কক্সবাজার শহরের সমিতি পাড়ায় তার বাসা থেকে আটকের নাটক সাজান ওসি প্রদীপ।
সাংবাদিক ফরিদুল মোস্তফার বিরুদ্ধে ওসি প্রদীপের নির্দেশে অস্ত্র মামলা ৭৫/১০২৫, মাদক মামলা ৭৭/১০২৭, চাঁদাবাজি মামলা ৪২/৭৯৮, ইয়াবা মামলা ৭৬/১০২৬, চাঁদাবাজি মামলা ১৫/৫৭৭, চাঁদাবাজি মামলা ১১৫/৫৬২ দায়ের করা হয়।

স্ত্রী হাসিনা জানান, প্রদীপের নির্যাতনে মাথা, চোখ ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে ব্যাপক জখমপ্রাপ্ত হন সাংবাদিক ফরিদ। অবস্থার অবনতি হলে তাকে চট্টগ্রাম চক্ষু হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়া হয়। পরে দীর্ঘ ১১ মাস ৫ দিন পর কারাগার থেকে মুক্তি লাভ করেন ফরিদুল মোস্তফা খান।

জানা যায়, ২০২০ সালের ২৭ আগস্ট জামিনের পর টানা দেড় মাস হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকতে হয় ফরিদুল মোস্তফাকে। এরপর পরিপূর্ণ সুস্থ না হলেও বাড়ি ফিরে যান ফরিদুল মোস্তফা। কারণ অর্থের অভাবে চিকিৎসা চালানো সম্ভব হচ্ছিল না।

পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, গ্রেফতারের পর থেকে মিথ্যা মামলায় জামিন নিতে সর্বস্ব হারাতে হয় ফরিদকে। ছোট্ট একখানা মাথা গোঁজার ঠাঁই বসতভিটা বিক্রি করতে হয় তার পরিবারকে। জামিনের পর চিকিৎসা শেষে ওঠেন ভাড়া বাড়িতে।
এরপর থেকে একদিকে শারীরিক অসুস্থতা, অন্যদিকে মিথ্যা মামলায় হাজিরা দিতে দিতে মানসিকভাবে ভেঙ্গে পড়েছেন তিনি।

কক্সবাজারের তৎকালিন পুলিশ সুপার মাসুদ হোসেনসহ প্রশাসনের উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা মামলা প্রত্যাহারের আশ্বাস দিলেও এখনো পর্যন্ত তা বাস্তবায়িত হয়নি।
মামলার ঘানি টানতে গিয়ে এখন মানসিক ও শারীরিকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়েছেন তরুণ সাংবাদিক ফরিদুল মোস্তফা খান। না পারছেন মামলা চালাতে, না পারছেন সংসার গোছাতে। অন্যদিকে তার পরিচালনাধীন দৈনিক কক্সবাজারবাণী পত্রিকাটিও চালু রাখতে তাকে হিমশিম খেতে হচ্ছে।

ফরিদের স্ত্রী হাসিনা মোস্তফা বলেন, তিনি এমনভাবে ভেঙ্গে পড়েছেন যে, তার পরিবার বাধ্য হয়ে তাকে সুস্থতার জন্য হাসপাতালে ভর্তি করিয়েছেন। মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার করে তাকে স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনা না গেলে তার পরিবারের অপূরণীয় ক্ষতি হতে পারে। ফরিদের পরিবার, স্বজন, সহকর্মীরা বিষয়টিতে সরকারের উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

 

 

এইচ এম কাদের  সিএনএন বাংলা ২৪