ই-পেপার | সোমবার , ২৪শে জুন, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ

১ কোটি শরণার্থীকে ফেরত পাঠানোর প্রতিশ্রুতি তুরস্কের কিলিচদারোগলুর

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : প্রথম দফায় তুমুল প্রতিদ্বন্দ্বিতার পর আগামী ২৮ মে দ্বিতীয় দফায় গড়ানো নির্বাচনে বিজয়ী হতে পারলে ১ কোটি শরণার্থীকে নিজ নিজ দেশে ফেরত পাঠানো হবে বলে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন তুরস্কের বিরোধীদলীয় প্রেসিডেন্ট প্রার্থী কেমার কিলিচদারোগলু। দেশটির জাতীয়তাবাদীদের ভোট পেতে এবং প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ানকে পরাজিত করার লক্ষ্যে তিনি অভিবাসীবিরোধী কড়া সুর চড়িয়েছেন।

তুরস্কের ধর্মনিরপেক্ষ দল রিপাবলিকান পিপলস পার্টির (সিএইচপি) এই নেতা দেশটির নির্বাচনে ছয়টি রাজনৈতিক দলের প্রার্থী হিসাবে এরদোয়ানের বিরুদ্ধে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। বিরোধী জোটের এই প্রার্থী বুধবার ক্ষমতাসীন সরকারের বিরুদ্ধে এক কোটি ‘অনিয়মিত’ অভিবাসীকে দেশে প্রবেশের অনুমতি দেওয়ার অভিযোগ তুলে ওই প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।

দেশটির প্রখ্যাত অর্থনীতিবিদ এবং দীর্ঘদিনের এই আমলা তুরস্কে অভিবাসীদের ক্রমবর্ধমান সংখ্যা নিয়ে সতর্ক করে দিয়েছেন। প্রায় সাড়ে ৮ কোটি মানুষের এই দেশটিতে অভিবাসীর সংখ্যা ৩ কোটিতে পৌঁছাতে পারে বলে সতর্ক করেছেন তিনি। তবে এই পরিসংখ্যানের ব্যাপারে কোনো প্রমাণ দিতে পারেননি তিনি।

বৃহস্পতিবার দেশটির বিরোধীদলীয় এই প্রেসিডেন্ট প্রার্থী আরও বলেছেন, এরদোয়ান তুরস্কের সীমান্তের সুরক্ষা নিশ্চিত করেননি। এমনকি সীমান্তের প্রতি সম্মানও প্রদর্শন করেননি তিনি।

এরদোয়ানকে উদ্দেশ্য করে কেমার কিলিচদারোগলু বলেছেন, ‘আপনি জেনেশুনে এই দেশে এক কোটির বেশি উদ্বাস্তুকে নিয়ে এসেছেন। আমি ঘোষণা দিচ্ছি— ক্ষমতায় আসার সাথে সাথে আমি সব উদ্বাস্তুকে তাদের বাড়িতে পাঠিয়ে দেব। সময়ের অপেক্ষা।’

২০১১ সালে প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদের বিরুদ্ধে গণআন্দোলন শুরু হলে সিরিয়ার আইনশৃঙ্খলাবাহিনী তা কঠোর হস্তে দমনে অভিযান শুরু করে। ওই সময় দেশটিতে তুমুল গৃহযুদ্ধ শুরু হয় এবং লাখ লাখ সিরীয় জীবন বাঁচাতে তুরস্ক ও অন্যান্য দেশে পালিয়ে যান।

অন্য যেকোনো দেশের তুলনায় বেশিসংখ্যক সিরীয় শরণার্থীকে আশ্রয় দিয়েছে তুরস্ক। দেশটিতে প্রায় ৩৬ লাখ সিরীয় শরণার্থী আশ্রয়ের জন্য নিবন্ধন করেন।

তবে শরণার্থীদের নিজ নিজ দেশে ফেরত পাঠানো নিয়ে বিরোধীদলীয় প্রেসিডেন্ট প্রার্থী কিলিচদারোগলুর হুঙ্কারের সমালোচনা করেছেন অনেকে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেকেই তার এই প্রতিশ্রুতি জাতীয়বাদী ভোটারদের আকর্ষণের জন্য করা হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন।

গত ১৪ মে তুরস্কে প্রথম দফার নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। এই নির্বাচনে কোনো প্রার্থী এককভাবে ৫০ শতাংশ ভোট না পাওয়ায় ২৮ মে দ্বিতীয় দফায় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। প্রথম দফার নির্বাচনে দেশটির ক্ষমতাসীন প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান অল্প ব্যবধানে এগিয়ে আছেন। ৫০ শতাংশের নিচে ভোট পেয়েছেন তিনি।

অন্যদিকে, ছয়দলীয় জোটের বিরোধী প্রার্থী কেমার কিলিচদারোগলু ৪৪ দশমিক ৯ শতাংশ ভোট পেয়েছেন। নির্বাচনী ফলাফলে তৃতীয় অবস্থানে আছেন সিনান ওগান। তিনি পেয়েছেন ৫ দশমিক ১৭ শতাংশ ভোট।