ই-পেপার | বৃহস্পতিবার , ১৩ই জুন, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ

রাশিয়ার ৪টি কনস্যুলেট বন্ধের নির্দেশ জার্মানির

আন্তর্জাতিক ডেস্ক.সিএনএন বাংলা২৪

রাশিয়া ও জার্মানির মধ্যে কূটনৈতিক উত্তেজনা যেন থামছেই না। ইউক্রেনে রুশ আগ্রাসন শুরুর পর থেকে সময় যত এগিয়েছে, রাশিয়া ও জার্মানির মধ্যে কূটনৈতিক উত্তেজনা ততই বেড়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় এবার রাশিয়ার চারটি কনস্যুলেট বন্ধের নির্দেশ দিয়েছে জার্মানি।

মূলত পশ্চিম ইউরোপের এই দেশটিতে রাশিয়ার পাঁচটি কনস্যুলেট রয়েছে এবং এর মধ্যে চারটিই বন্ধের নির্দেশ দেওয়া হলো। বুধবার (৩১ মে) এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে সংবাদমাধ্যম পলিটিকো।

সংবাদমাধ্যম বলছে, জার্মানিতে রাশিয়ার পাঁচটি কনস্যুলেটের মধ্যে চারটিই বন্ধ করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বার্লিন। ইউক্রেন যুদ্ধকে কেন্দ্র করে রাশিয়া ও জার্মানির মধ্যকার সম্পর্কে যখন তীব্র টানাপড়েন চলছে তখন এই পদক্ষেপ নেওয়া হলো। এতে করে উভয় দেশের মধ্যে চলমান উত্তেজনা আরও বাড়তে পারে বলে শঙ্কা দেখা দিয়েছে।

পলিটিকো বলছে, জার্মানি তার দেশে অবস্থিত পাঁচটি রুশ কনস্যুলেটের মধ্যে চারটির লাইসেন্স প্রত্যাহার করছে বলে বুধবার দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একজন মুখপাত্র বলেছেন। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মতে, জার্মানির ফেডারেল রিপাবলিকের চারটি কনস্যুলেট জেনারেল গুটিয়ে নেওয়ার ব্যবস্থা করতে এবং চলতি বছরের ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে তা সম্পন্ন করতে মস্কোকে বলা হয়েছে।

দুই দেশের মধ্যে ‘কাঠামোগত এবং কর্মী সমতা’ তৈরি করার উদ্দেশ্যে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলেও জার্মান পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে। মূলত ইউক্রেনের বিরুদ্ধে রাশিয়ার আগ্রাসন শুরু হওয়ার পর থেকে জার্মানি ও রাশিয়া বারবার একে অপরের কূটনীতিকদের বহিষ্কার করেছে।

পলিটিকো বলছে, বার্লিনের এই সিদ্ধান্তটি বুধবার রাশিয়ান পক্ষকে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে বলে জার্মান পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে বলা হয়েছে। সিদ্ধান্ত কার্যকর হওয়ার পর থেকে একটি কনস্যুলেট জেনারেলের পাশাপাশি রাশিয়ান দূতাবাস জার্মানিতে কাজ চালিয়ে যাবে।

জার্মান পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ক্রিস্টোফার বার্গার বলেছেন, কনস্যুলেট বন্ধ করে দেওয়ার এই সিদ্ধান্ত রুশ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে জানানো হয়েছে। তিনি বুধবার বার্লিনে এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, রাশিয়ায় ৩৫০ জনের বেশি জার্মান অবস্থান করতে পারবে না বলে মস্কো বিধিনিষেধ আরোপ করার পর রুশ কনস্যুলেট বন্ধ করার এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

এর আগে রাশিয়া জানিয়েছিল, মস্কোতে অবস্থিত জার্মান দূতাবাসে এবং অন্য সংগঠন থেকে কর্মী ছাঁটাই করতে হবে। রাশিয়ার নির্দেশনা অনুযায়ী, দেশে ৩৫০ জনের বেশি জার্মান থাকতে পারবেন না। এই নির্দেশনার মধ্যে স্কুলে ও অন্য সাংস্কৃতিক সংগঠনে কর্মরত জার্মানরাও অন্তর্ভুক্ত।

এই পরিস্থিতিতে বুধবার জার্মানির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আনালেনা বেয়ারবক বলেছেন, বিপুল সংখ্যক জার্মান নাগরিককে রাশিয়া ছাড়তে হবে। ইউক্রেন যুদ্ধ শুরুর পর এমনিতেই জার্মানি ও রাশিয়ার সম্পর্ক খারাপ হয়েছে। এখন তা আরও খারাপ হলো।

মূলত ইউক্রেনে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের বেশ কয়েকটি দেশ রাশিয়ার কূটনীতিকদের বহিষ্কার করেছে। গুপ্তচরবৃত্তির সন্দেহে ৪০ জনেরও বেশি কূটনীতিককে ২০২২ সালের মার্চ মাসে চারটি ইইউ দেশ থেকে বহিষ্কারের আদেশ জারি করা হয়েছিল।

তবে রাশিয়া এবং জার্মানির মধ্যে গভীর অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিক সম্পর্ক ছিল। অবশ্য ইউক্রেনে রাশিয়ার সর্বাত্মক আগ্রাসনের পর থেকে সেই সম্পর্কে অনেকটাই ভাটা পড়েছে। এছাড়া রুশ হামলা শুরুর কয়েক দিনের মধ্যে জার্মান চ্যান্সেলর ওলাফ শলৎস সামরিক ব্যয় বাড়িয়ে এবং ইউক্রেনে সরাসরি অস্ত্র পাঠানোর প্রতিশ্রুতি দিয়ে জার্মানির বৈদেশিক নীতিতে কার্যত বিপ্লব ঘটান।

সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে সংবাদমাধ্যম বিবিসি বলছে, শলৎস তার সেই প্রতিশ্রুতি রক্ষা করেছেন। চলতি বছরের জানুয়ারিতে জার্মানি ইউক্রেনে লিওপার্ড ২ ট্যাংক পাঠানোর ঘোষণা দেয়।

এছাড়া গত মাসে ইউক্রেনকে ‘যতদিন প্রয়োজন ততদিন’ সহায়তা করার প্রতিশ্রুতির পাশাপাশি ২.৭ বিলিয়ন ইউরোর অস্ত্র সহায়তা দেওয়ার ঘোষণাও দেন তিনি।

 

এইচ এম কাদের,সিএনএন বাংলা২৪